গবেষণা

ট্রাম্পের শুল্কে জার্মান গাড়ি রফতানিতে বড় ধাক্কা

এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি রফতানি কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ।

এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি রফতানি কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর জার্মান শিল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাত এটি। খবর রয়টার্স।

ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির আওতায় ১ আগস্ট থেকে ইউরোপীয় গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ বেজলাইন শুল্ক প্রযোজ্য হচ্ছে। তবে এটি ট্রাম্প প্রস্তাবিত প্রারম্ভিক শুল্কহারের তুলনায় কম। ওই প্রস্তাবে আগে থেকে বিদ্যমান আড়াই শতাংশ শুল্কের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ছিল।

ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাপে জার্মান প্রকৌশল কোম্পানিগুলোর অবস্থাও দুর্বল হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান প্রকৌশল খাতের রফতানি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

জার্মান যন্ত্রপাতি রফতানিও চাপে পড়েছে। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক খাতটিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

রাসায়নিক শিল্প খাতেও জার্মানির সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র, এখানে রফতানি কমেছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। অবশ্য প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এ পতনের জন্য শুধু শুল্কই দায়ী নয়, বরং রাসায়নিক পণ্য রফতানি কমার ক্ষেত্রে অন্য কারণও ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বালানি দামের কারণে জার্মানিতে উৎপাদন কমে যাওয়া।

সব খাত মিলিয়ে ২০২৫ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এর আগে ২০১৬-২৪ সালে বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে সার্বিকভাবে গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।

গবেষক সামিনা সুলতান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ধরে নিতে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক শিগগিরই ট্রাম্প প্রশাসনের আগের স্তরে ফিরবে না। ফলে জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

এ পরিস্থিতিকে জার্মান রফতানি খাতের জন্য ‘নিউ নরমাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সামিনা সুলতান।

আরও